কুড়িগ্রামের উলিপুরে গৃহবধূ রোকাইয়া আক্তার রিংকি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে পৌর শহরের গবা মোড়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার অগ্রগতি না হওয়া এবং আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে নিহত রিংকির মা মাসুদা বেগম, মামি লিপি বেগম, এলাকাবাসী ফকরুল ইসলাম, চাঁদ মিয়া, পাণ্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক বাদলসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের তিন বছর অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে—সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। পরে রিংকি হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, আসামিদের গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। ঘটনার সময় তিনি অন্য থানায় কর্মরত ছিলেন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ বলেন, ‘স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে।’
২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট সকালে উপজেলার পাণ্ডুল ইউনিয়নের তেলীপাড়া এলাকায় বাবার বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে রোকাইয়া আক্তার রিংকির (১৯) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে উলিপুর থানায় মামলা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় মাস আগে পাশের ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মাঝবিল এলাকার এক সেনাসদস্যের সঙ্গে রিংকির বিয়ে হয়। অসুস্থ দাদিকে দেখতে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসার পর তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
তিন বছরেও মামলার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
Leave a Reply