ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক তরুণীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করে প্রশংসিত হয়েছেন পুলিশ সদস্য অমিত হাসান। অসীম সাহসিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দেওয়ায় তাকে সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবদুর রউফ।
বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অমিত হাসানের হাতে সম্মাননাপত্র ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তার সাহসিকতার প্রশংসা করে পুলিশ সুপার বলেন, বিপদের মুহূর্তে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে একজন মানুষের জীবন রক্ষায় এগিয়ে যাওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার শেখ হাসিনা সড়কের প্রথম সেতুতে ঘটে ঘটনাটি। রাত আনুমানিক ১০টা ৫ মিনিটের দিকে এক তরুণী সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি চোখে পড়ার পর সেখানে থাকা অমিত হাসান দ্রুত তাকে উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুটি নদীর পানি থেকে প্রায় ৪০ হাত উঁচুতে। সেখানে উপস্থিত অনেক মানুষ জড়ো হলেও কেউ পানিতে নামার সাহস করছিলেন না। পরিস্থিতি বুঝে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে অমিত সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে ওই তরুণীর কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
জানা গেছে, ওই তরুণীর বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে। স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করলেও দাম্পত্য কলহের কারণে কয়েক মাস আগে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার পর অমিত হাসান জানান, ওই রাতে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তিনি সেতুর এলাকায় ছিলেন। হঠাৎ একজন নারীকে নদীতে পড়ে যেতে দেখে তারা স্থানীয়দের সহযোগিতা চান। কিন্তু কেউ পানিতে নামতে এগিয়ে না আসায় তিনি নিজেই ঝাঁপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকলেও একজন মানুষের জীবন রক্ষাকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন।
অমিত বলেন, একজন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারার অনুভূতি তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে এমন কাজে অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করা বন্ধুদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
অমিতের এই সাহসিকতার স্বীকৃতি শুধু তাকে উৎসাহিত করবে না, বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply