ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নভুক্ত বিরামপুর গ্রামে স্থানীয় সড়ক ও কৃষকের ফসলি জমি হুমকির মুখে ফেলে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলার কাউতলী মোড় থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক অভিমুখী সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত রাধিকা-নবীনগর সংযোগ সড়কের বিরামপুর গ্রামের পশ্চিম পাশে সড়ক সংলগ্ন সরকারি খাল থেকে প্রতিনিয়ত তোলা হচ্ছে বালু। আর এই চোরাই বালু দিয়ে নির্বিচারে ভরাট করা হচ্ছে বিভিন্ন বসতবাড়ির ভিটা। প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসের এমন অপতৎপরতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।সরেজমিনে জানা গেছে, রাধিকা বাজারের ঠিক পরবর্তী গ্রাম বিরামপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটি এলজিইডি (LGED)-এর অধীনে নির্মিত। সড়কের একদম কোল ঘেষেই প্রবাহিত সরকারি খাল থেকে ড্রেজার ও বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলনের ফলে সড়কটির তলদেশ থেকে মাটি সরে গিয়ে তা মারাত্মক ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে। শুধু তাই নয়, বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গভীর খাদের কারণে খালের তীরবর্তী প্রান্তিক কৃষকদের শত শত বিঘা ফসলি জমি ও পার ভেঙে ধসে পড়ছে খালের গর্ভে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন স্থানীয় দরিদ্র চাষিরা।এলাকার ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা বিস্ময় ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, এলজিইডির ন্যূনতম অনুমতি কিংবা ইজারা ছাড়াই প্রকাশ্য দিবালোকে কীভাবে খালের মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করা হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। মনে হচ্ছে, প্রভাবশালী এই চক্রটি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।”বিরামপুর গ্রামের এই গ্রামীণ সড়কটিকে সম্পূর্ণ ধসে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে এবং কৃষকের শেষ সম্বল ফসলি জমির অপচয় রুখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে সরেজমিনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই নদী ও পরিবেশ ধ্বংসকারী দুর্নীতির সাথে জড়িত চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি আওতায় আনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন সদরবাসী।
Leave a Reply