আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালীর ১০ নং অশ্বদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল আল ফারুক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সচেতনতার ভিত্তিতে একটি “মডেল ইউনিয়ন” গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তার বিজয় কার্যকর হয়নি। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ শুধু সালিশ বা কিছু সীমিত কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচিত হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভূমি বিরোধ ও সালিশ বাণিজ্য বর্তমানে একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ করা, মাদক নির্মূল, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অন্যায়ভাবে মানুষকে হয়রানি করার সংস্কৃতি বন্ধ করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
এলাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে তিনি মাদককে উল্লেখ করে বলেন, যুব সমাজ ধীরে ধীরে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
যুব সমাজের উন্নয়নে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজমুখী করা এবং যারা শিক্ষার বাইরে রয়েছে তাদের জন্য কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। এতে করে যুব সমাজ আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।
নিজেকে একজন সৎ ও জনবান্ধব রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো দুর্নীতি, সন্ত্রাস বা কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য।
দলীয় পরিচয়ের বাইরে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্বাচিত হলে তিনি অশ্বদিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
শেষ কথা: জনগণের সমর্থন ও দোয়া পেলে তিনি উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply